কামরাঙা ফলের গুণাগুণ

সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে ফল খাওয়ার বিকল্প নেই। ফলে প্রচুর পুষ্টি বা ভিটামিন থাকে, যা সহজেই আমাদের শরীরে সরবরাহ হয়ে শক্তি যোগায়। গ্রামবাংলার ঘরে ঘরে সুপিরিচিত এমনই উপকারী এক ফল হলো কামরাঙা।

কামরাঙা ফলটিকে ইংরেজিতে স্টার ফ্রুট বলা হয়। এই ফল খাওয়ার জন্য ছোট ছোট টুকরোয় কাটা হলে টুকরোগুলোকে তারার মতো দেখায়। তাই একে ইংরেজরা স্টার ফ্রুট নাম দিয়েছিল হয়তো। কামরাঙাকে বিজ্ঞানের ভাষায় এভররোহা কারামবোলা বলে। এ ফল পাকলে হলুদে এবং অপরিপক্ক অবস্থায় সবুজ রঙের হয়। পাকা কামরাঙা কিছুটা টক কিছুটা মিষ্টি স্বাদ ধারণ করে।

কামরাঙা ফলে অসংখ্য ঔষধিগুণ বিদ্যমান। এতে ভিটামিন-বি ও ফাইবারের মতো পুষ্টিগুণও রয়েছে। এ ফল যেমন পাচন স্বাস্থ্যের খেয়াল রাখে, তেমন ভাবে স্ট্রোক এবং হার্টের নানান রোগের হাত থেকেও রক্ষা করে। কামরাঙা গাছের পাতা আলসার রোগ সারাতে সাহায্য করে। চুলের গোড়া মজবুত করতেও বিশেষ উপকারী কামরাঙা ফল।

১. শরীরের অতিরিক্ত ওজন কমাতে খুবই উপকারী কামরাঙা।এক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, কামরাঙায় পর্যাপ্ত পরিমাণে ফাইবার থাকলেও ক্যালোরির পরিমাণ থাকে খুবই কম। স্বল্প পরিমাণে কামরাঙা খেলে শরীরের বাড়তি ওজন কমবে।
২. দূরারোগ্য ব্যাধি ক্যান্সার দূরে রাখতেও ভূমিকা পালন করে কামরাঙা ফল। কামরাঙায় প্রচুর বিটা-ক্যারোটিন থাকে। বিটা ক্যারোটিন অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের ভুমিকা পালন করে। পরিমাণ মত বিটা-ক্যারোটিন খেলে শরীরের ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি কমায়।
৩. ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রনেও উপকারী ফল কামরাঙা।কামরাঙা পাতার নির্যাস গ্লুকোজের স্তরকে উন্নত করে। শরীরে গ্লুকোজের ভারসাম্য বজায় রেখে কামরাঙা ডায়াবেটিসের চাপ কমায় কামরাঙা।

৪. মানব শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ব্যাপক ভূমিকা পালন করে কামরাঙা।কামরাঙায় প্রচুর পরিমাণে বিটা-ক্যারোটিন থাকে। মানবদেহ এই বিটা-ক্যারোটিনকে ভিটামিন-এতে বদলে নিতে পারে।
৫. কামরাঙা ফল হজম শক্তি উন্নত করতে উপকারী। ফাইবার যুক্ত ফলের তালিকায় অন্যতম ফল হিসেবে কামরাঙাকে বিবেচনা করা হয়। ফাইবারযুক্ত খাবার হজমের চমৎকার পথ্য।ফাইবারযুক্ত খাদ্য হিসেবে কামরাঙা কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যাও দূর করে।

৬. মানব শরীরের সমস্ত কোষেই কোলেস্টেরল বিদ্যমান।কোলেস্টেরল অতিমাত্রায় বেড়ে গেলে তা হার্টের সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। কোলেস্টেরলের মাত্রা কমনোর ক্ষেত্রে কামরাঙা ফল কাজ করে। কামরাঙায় কোলেস্টেরল প্রায় থাকেই না বলা চলে। তাই এ ফল খেলে কোলেস্টেরল স্তর বাড়ার সম্ভাবনাও হয় না।
৭. শ্বাস-প্রশ্বাস সম্পর্কিত রোগ-ব্যাধি সারাতে কামরাঙা উপকারী। কামরাঙায় অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট আয়রন, জিংক, ফসফরাস ও ম্যাগনেশিয়ামের মতো গুণাবলী রয়েছে। কামরাঙা খেলে অ্যাজমার মতো শ্বাসকষ্ট জনিত রোগের সমাধান হয়।

৮. শরীরে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে কামরাঙা ভীষণ উপযোগী। কামরাঙায় পর্যাপ্ত পটাশিয়াম থাকে। যা শরীরের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে।
৯. শরীরের হাড়ের স্বাস্থ্য বজায় রাখতে কামরাঙা ভীষণ উপকারী। হাড় মজবুত ও স্বাস্থ্যবান রাখতে ক্যালসিয়াম খুবই জরুরি। কামরাঙায় পর্যাপ্ত ক্যালসিয়ামের উপাদান থাকে। ক্যালসিয়ামযুক্ত খাবার খেলে তা শরীরের হাড় মজবুত করে।
১০. শরীরের ত্বক উজ্জ্বল রাখার জন্য কামরাঙা ফল বিশেষ উপকারী। কামরাঙায় ভিটামিন-সি থাকে এবং ভিটামিন-সি শরীরে অ্যন্টি-অক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। ভিটামিন-সি খেলে বা ত্বকে লাগালে তা ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায় এবং ত্বকের রঙ পরিষ্কার করে। সৌজন্যে: স্টাইলক্রেজ 

আরো পড়ুন: নিমের উপকারীতা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *