তুলসী পাতার গুণাগুণ

তুলসী একটি বহুবিধ গুণবিশিষ্ট জনপ্রিয় ভেষজ উদ্ভিদ। যা ভারতবর্ষে ব্যাপক ভাবে সমাদৃত। তুলসী সনাতন ধর্মের লোকজনের কাছে পবিত্র গাছ । তুলসী গাছ ক্যান্সার, ডায়বেটিস বা হৃদরোগের মত নানা মারণাত্মক রোগের বিরোধ্যে শক্তিমান প্রতিষেধক হিসেবে লড়াই করতে পারে। তুলসী পাতার এতসব গুণ রয়েছে যে এই পাতাকেই ওষুধ বলে গণ্য করা হয়।

মানসিক চাপ:

বিশ্বের নানান দেশে তুলসীকে মানসিক চাপ মুক্ত করার একটি অসাধারণ ঔষধ হিসেবে ব্যবহার হয়। এই পাতায় বিদ্যমান এন্টি ইনফ্লেমেটরি ও রোগ প্রতিরোধ করার উপাদান যা ক্লান্তি ও চাপ মুহূর্তের মধ্যে দূর করতে পারে। ইহা শরীরের কর্টিসোল মাত্রা কমিয়ে আনে ও অতিরিক্ত উত্তেজনা এবং চাপ থেকে মুক্তি দেয়।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি: বৈজ্ঞানিক পরীক্ষায় দেখা গেছে তুলসী পাতায় বিদ্যমান রোগ প্রতিরোধ করার ক্ষমতা যেমন এস্থেমা, ফুসফুসের সমস্যা, ব্রঙ্কাইটিস, ইত্যাদি। ঠাণ্ডা বা সর্দি কাশি, বুকে কফ বসে গেলে তুলসী পাতার দ্বারা তা তরল করে খুব সহজে শরীর থেকে তা দূর করা যায় । জ্বরের সময়ও তুলসী পাতা খুব কার্যকরী। বর্ষাকালে তুলসী পাতা ও এলাচ ভালো করে পানিতে ফুটিয়ে তা পান করলে সহজেই নানান মৌসুমী রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। সার্জারি করার পর বা কোনো ক্ষতস্থানে তুলসী বেটে লাগালে তা বেশ তাড়াতড়ি শুকিয়ে ওঠে।

ওজন কমানো:

তুলসী পাতার দ্বারা রক্তের সুগার ও কোলেস্টরল রোধ করে সহজেই ওজন বৃদ্ধির হাত থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। তার সাথে কর্টিসোল মাত্রা কমার ফলে মানসিক চাপ দূর হয়, যার ফলে ওজন কমানো আরো সহজ হয়। এক গবেষণায় দেখা গেছে, তুলসী পাতা দিয়ে তৈরী ক্যাপসুল প্রতিদিন খাওয়ার ফলে ওবেসিটি ও লিপিড প্রোফাইল মারাত্মক ভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
দাঁতের স্বাস্থ্য সুরক্ষা: তুলসী দিয়ে দাঁতের জন্যে টুথপেস্ট ও মাউথ ওয়াশ তৈরী করা যায়। তুলসীতে রয়েছে এন্টি ব্যাক্টিরিয়াল উপাদান । এছাড়া এতে রয়েছে এন্টি মাইক্রোবিয়াল উপাদান যা দাঁতের যেকোনো সমস্যা, মাড়ির সমস্যা ও মুখের দুর্গন্ধ দূর করতে সাহায্য করে।

চোখের সমস্যা প্রতিরোধ:

চোখে খুব সহজেই নানান ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে । যেমন চুলকানি, চোখ লাল হয়ে যাওয়া, আঞ্জনি, জল বা পিচুটি কাটা, ছানির সমস্যা বা দৃষ্টিশক্তির সমস্যা দূর করতেও তুলসী পাতা খুব কার্যকরী।
হৃদরোগ প্রতিরোধ: বর্তমান সময়ে হার্টের সমস্যা ভীষণভাবে বেড়ে গেছে যা মৃত্যুরও বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। হৃদরোগ জন্ম দেয় হাইপারটেনশন, উচ্চ রক্তচাপ বা কোলেস্টরলের। তুলসী দ্বারা রক্তের জমাট বাধার সমস্যা দূর করা যায় ও হার্ট এটাক রোধ করা যায়। হার্টের অন্যান্য সমস্যাও সহজে রোধ করতে পারে তুলসী ।

গলা ব্যথা:

গলা ব্যথা কমাতে তুলসীর চা খুবই কার্যকর।

ক্যান্সার প্রতিরোধ:

তুলসীতে রয়েছে রেডিওপ্রটেকটিভ উপাদান যা টিউমারের কোষগুলিকে নির্মূল করে। তুলসীতে থাকা ফাইটোকেমিক্যাল যেমন রোসমারিনিক এসিড, মাইরেটিনাল, লিউটিউলিন এবং এপিজেনিন ক্যান্সারের বিরুদ্ধে কাজ করতে অসামান্যভাবে কার্যকরী । অগ্নাশয়ের টিউমার কোষ দূর করতেও তুলসী পাতা দারুণ উপকারী । ব্রেস্ট ক্যান্সার রোধেও তুলসী পাতা দারুণ উপকারী।
ডায়বেটিস প্রতিরোধ: ডায়বেটিকস রোগে ভোগা মানুষদের জন্যে তুলসী পাতা ইন্সুলিন উৎপাদনের নিয়ামক হিসেবে কাজ করে। রক্তে সুগার কমাতে খাওয়ার আগে তুলসী পাতা খাওয়ার অভ্যেস করুন। তুলসী এন্টি ডায়বেটিক ওষধির কাজ করে ।

কিডনি স্টোন:

তুলসী পাতা কিডনীর পাথর নির্মূলে খুব কার্যকরী।

পেট ও লিভারের উপকারে:

পেটের পীড়ায় তুলসী পাতার মত কোনো ওষুধ নেই। পেট ব্যাথা, অম্বল, গ্যাস, কোষ্ঠকাঠিন্য ইত্যাদি রোগ প্রতিরোধে তুলসী পাতা কার্যকরী। পেটের আলসারেও তুলসী পাতার ভূমিকা প্রমাণিত হয়েছে। লিভারের বিষক্রিয়াকরণ রোধ করতে তুলসী পাতা উপকারী। এতে রয়েছে সাইটোক্রোম।

চুল পড়া বন্ধ করে:

চুলের গোঁড়া মজবুত করে চুল পড়া সমস্যা দূর করে তুলসী পাতা। তুলসী পাতায় থাকা এন্টি মাইক্রোবিয়াল উপাদান চুল পড়া রোধ করে। তুলসীতে রয়েছে এমন কিছু উপাদান যা চুলের চার রকমের সমস্যার নিরসনে কাজ করে যার ফলে চুলে খুশকি হতে পারে। চুলে খুশকির সমস্যা হলে তুলসী পাতা ব্যবহার করা উত্তম ঔষধ। পাকা চুলের সমস্যা দূর করতেও উপকারী তুলসী পাতা।

 

প্রতিদিন খালি পেটে তুলসী পাতা চিবিয়ে খাওয়ার অভ্যেস নানারকমের অসুস্থতা দূর করে। তুলসী পাতা দিয়ে রকমের চা তৈরী করা যায়। এক পাত্র পানিতে তুলসী পাতা, আদা ও চা পাতা ফুটিয়ে অল্প মধু ও লেবুর রস মিশিয়ে চা তৈরি করতে হবে।

4 thoughts on “তুলসী পাতার গুণাগুণ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *