মার্জিয়া জাহানের কবিতা

বসন্ত

কেউ কেউ বসন্ত আসার প্রহর গুণে-

ফাগুনের আগুনঝরা রূপে নিজেকে মিশাবার শখে!

নির্জন দুপুরে বাসন্তী বাতাস গায়ে মাখবে

নিস্তব্ধ রাতে চন্দ্রগলা জোছনায় হারাবে

প্রিয়জনের পাশে থেকে পরম প্রশান্তির নি:শ্বাস নিবে

সকাল সন্ধ্যে ফুলের ঘ্রাণে মাতোয়ারা হবে

আরও কত কী হরেক রকম ইচ্ছে জাগে!

আবার কেউ কেউ বসন্ত থেকে পলায়নের উপায় খোঁজে।

কারণ এ বসন্ত যদি বিষাক্তরূপী হয়ে দাঁড়ায়!

রাতজাগা নিশাচর পূর্নিমার চাঁদ দেখতে দেখতে কখন জানি ভুলবশত একজন চন্দ্রসাথী চেয়ে বসে! চাইতেই পারে; স্বাভাবিক।

সবাই চায় তার প্রিয়জনের সাথে চাঁদ দেখতে।

স্মৃতিচারণ  সম্পূর্ণ বারণ বলে যে স্মৃতি সেই কবেই কবর দেয়া হয়েছে- তা যদি হুট করে আবার মগজে ধরে যায়! তখন?

অতশত ভেবেও লাভ নেই

যা হবার তা হয়’ই।

বাসন্তী বাতাস বসন্তের জানান দেয়,

মানুষ পশুপাখি বৃক্ষাদি সাগর নদী

কাওকেই ছেড়ে যায় না এ বসন্তদূত।

 

হিংসুটে পাগলী

 

একটা মেয়ে এমন মাত্রাতিরিক্ত হিংসুটে-

কেউ তার কোনো জিনিসে ধরলে আগুনঝরা চোখে তাকায়

লোহিত কণিকারা যেন টগবগ করে, মনে হয় যেন কলিজায় আঘাত করছে,

বুঝি এখুনি তাকে শেষ করে দিবে!

“এসবে স্পর্শ বারণ” প্রত্যেকটি জিনিসে লেখা সত্তেও

কেউ বুঝি নিয়ম ভঙ্গ করেছে- ভাবটা এমন!

সে চায় তার সবকিছু তার’ই থাকুক।

একান্তই নিজের! তাতে কারও কোনো নজর না লাগুক,

হোক না সেটা নিতান্তই নগণ্য,

তবুও সেটা শুধুই তার; খুব একান্ত।

অথচ সে ভুলেই গেছে এ সব জিনিস’ই তো ক্ষণভঙ্গুর!

যে চিরস্থায়ী, যাকে সবার বাহিরে

সবকিছুর ঊর্ধ্বে রেখেছে তার বেলায়?

হ্যাঁ তার বেলায় এক রাশ দীর্ঘশ্বাস ছাড়া কিছুই করার থাকেনা!

চোখের সামনে অনায়েসে সে মানুষ

অন্যের হয়ে যায় কত অবলীলায়- কিছুই করার থাকেনা, কিচ্ছু না!

ভুলবশত একটিবারের জন্য হলেও

সে মানুষটা যদি তার হত!

ইশ্! সারা দুনিয়া একটা হিংসুটে পাগলীর-

সফল গল্প জানতো!!

 

 

তবুও আসুন

 

আমি জানি আপনি আমার না

তবু আপনি আসুন,

হৃদয়  আসনে খানিকের  জন্য বসুন

মন ভরে ভালোবাসুন, ইচ্ছেমত কষ্ট দিন।

তবুও আসুন-

বুকে আগুন জ্বলুক!

প্রতিটি নিউরনে সে আগুন নিয়ে যন্ত্রণায় কাতরানো হোক!

সে মানুষ ধুঁকে ধুঁকে সে আগুনে পুড়ে মরুক…

তবুও আপনি আসুন।

 

 

জীবন

না বুঝলে জীবনের মূল্য

সাধের জীবন সবটাই শূন্য।

চতুর মানুষ সময়েই যতন করে

বিরামহীন সাধনায়-

অমূল্য রতন অর্জন করে।

বোকারা শুধু হিসেব কষে

সময়ে অসময়ে ক্লান্তিশ্বাসে!

জীবন তো একবার’ই আসে

ক’জন আর সফলতা ছুঁতে পারে!

 

 

এইতো জীবন

 

সুনিশ্চিত মৃত্যুমুখী

সে ও চায় খানিক প্রশান্তি।

মরে মরে বেঁচে থাকা

প্রাণান্ত আকুতি গাঁথা,

পাওয়া আর না পাওয়া

হা-হুতাশে হিসেব শেষে

গড়মিলেই মেনে নেয়া!

জীবন ভারবহ কতখানি

ক্ষীণ নি:শ্বাসেরা জানে বুঝি!

এইতো জীবন

অসহ্যের মতন।

 

 

সঙ্গপ্রিয়

 

পৃথিবীর কোনো প্রাণী’ই একা থাকতে চায়না

সবাই চায় তার নিজস্ব কেউ থাকুক।

যে নিসঙ্গ ভালোবাসে, নিসঙ্গে বাঁচে

সে ও চায় তার এমন নিরব একজন সঙ্গী হলেও  হউক

তবুও কেউ একজন থাকুক।

নিরবে নিভৃতে চন্দ্রাহত হওয়া

ঝিঁঝিঁ পোকার আসর দেখা

নদীর পাড়ে হাঁটা

এমন সব মুহূর্তকাল আরও একটু মধুর হউক।

যখন সময় তীব্র যন্ত্রণাময়

ব্যর্থতায় ধ্বসে জীবনক্ষয়

সব হারিয়ে সর্বস্বহারা যখন

সেই অবেলায় কেউ একজন মায়াভরে ডাকুক।

এমন কেউ একজন থাকুক।

একলা একা আর কত?

অব্যক্ত অনুভূতি জমা শত শত

সেসব শুনার জন্য একজন সঙ্গী হউক।

মানুষ সঙ্গপ্রিয়; সঙ্গ ভালোবাসে খুব

শুধু ভুল মানুষে ঠকে গেলেই নিসঙ্গকে আপন করে নেয় বড্ড ভীষণ।

তবুও সে চায় আবার আসুক

ভুল মানুষ হলে হোক; তবুও সঙ্গী হউক!

আমৃত্যু যে একাকীত্ব বেছে নেয়  সে ও হয়ত আফসোস করে ইশ্ যদি কেউ থাকতো পাশে!!

 

 

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *