আরতুগ্রুল গাজী: সংক্ষিপ্ত জীবনী

আরতুগ্রুল যিনি আরতুগ্রুল গাজী নামে পরিচিত ছিলেন। উসমানীয় সাম্রাজ্যের বা উসমানীয় খিলাফাতের প্রতিষ্ঠাতা প্রথম উসমানের পিতা। আর্তুগ্রুল ওঘুজ বংশের তুর্কিদের কায়ি গোত্রের নেতা ছিলেন। বাইজেন্টাইনদের বিরুদ্ধে রোমের সেলজুকদের সাহায্যার্থে আরতুগ্রুল মার্ভ থেকে আনাতুলিয়ায় আসেন। এ সময় তিনি বেশ কিছু ধারাবাহিক ঘটনার মাধ্যমে তিনি উসমানীয় সাম্রাজ্য সৃষ্টিতে নেতৃত্ব দেন। তার ছেলে প্রথম উসমান এবং ভবিষ্যৎ বংশধরদের মত তাকেও গাজী উপাধিতে সম্বোধন করা হয়। গাজী দ্বারা ইসলাম ধর্মের জন্য লড়াই করা বীর যোদ্ধাদের বোঝায়।

তার পূর্ণ নাম আরতুগ্রুল গাজী বিন সুলেইমান শাহ,জন্ম সাল পাওয়া যায়নি, মৃত্যু ১২৮০ খ্রিস্টাব্দ, মৃত্যুস্থান সুগুত, বিলজিক প্রদেশ, তুরস্ক, সমাধিস্থল আরতুগ্রুল গাজি তুর্বেসি, দাম্পত্যসঙ্গী হালিমা সুলতান এবং হালিমা সুলতান মৃত্যুর পরে ইলবিল্গে হাতুন। পিতা সুলেইমান শাহ, মাতা হায়মা হাতুন।

আরতুগ্রুল ১২৩০ সালে ওঘুজ তুর্কিদের কায়ি গোত্রের নেতৃত্বে আসেন। বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে সেলজুকদের সাহায্যকারী হওয়ার ফলশ্রুতিতে তিনি নেতৃত্ব পান। রোমের সেলজুক তুর্কি প্রথম কায়কোবাদ কর্তৃক তিনি বর্তমান আঙ্কারা নিকট কারাকা ডাগের ভূমি লাভ করেন। আরতুরুলকে সেলজুকদের নেতার ভূমি প্রদানের কারণ ছিল যাতে আরতুগ্রুল বাইজেন্টাইন বা অন্যান্য প্রতিপক্ষের কাছ থেকে আসা হামলা শক্ত হাতে প্রতিহত করতে পারেন। পরবর্তীতে তিনি সুগুত গ্রাম ও একে ঘিরে থাকা জায়গা লাভ করেন যা ১২৩১ সালে তিনি জয় করেন। সুগুত ১২৯৯ সালে তার পুত্র সুলতান উসমান গাজী খান কর্তৃক উসমানীয় সাম্রাজ্যের রাজধানীতে পরিণত হয়। আরতুগ্রুল গাজীর আরো দুই পুত্র হলেন সাবচি বে এবং গুন্দুজ বে।

উনিশ শতকে উসমানীয় নৌবাহিনীর একটি জাহাজকে তার নামে নামকরণ হয়। তুর্কমেনিস্তানের আশখাবাদে অবস্থিত আরতুগ্রুল গাজী মসজিদটিও তার নামে নামকরণ হয়েছে। ২০০১ সালে তুর্কমেনিস্তান তার নামে একটি কয়েন চালু করেছে। তুরস্কের বিখ্যাত দিরিলিস: আরতুগ্রুল নামক টেলিভিশন ধারাবাহিকে এনজিন আলতান দোজায়তান আরতুগ্রুল গাজীর ভূমিকায় অভিনয় করেন।

আরো পড়ুন: ইবনে আরাবীর বাণী

আমাদের ফেসবুক পেজ: বাংলা ক্রনিকল

One thought on “আরতুগ্রুল গাজী: সংক্ষিপ্ত জীবনী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *