এডসেন্স এর বিকল্প এড নেটওয়ার্ক

ওয়েবসাইটে এড পাবলিশার তথা ব্লগার, ফ্রিল্যান্সারদের কাছে খুবই প্রিয় পরিচিত একটি শব্দ হলো এড নেটওয়ার্ক। এড নেটওয়ার্ক থেকে পাবলিশার ব্লগার ফ্রিল্যান্সাররা উপার্জন করে থাকেন। সারবিশ্বের সব দেশেই এড নেটওয়ার্কের প্রচলন রয়েছে। পৃথিবীর সর্ববৃহৎ টেক জায়ান্ট গুগল কোম্পানিও গুগল এডসেন্স নামে একটি এড নেটওয়ার্ক পরিচালনা করছে। গুগল এডসেন্সই সর্বাধিক জনপ্রিয় এড নেটওয়ার্ক। এডসেন্স ছাড়াও আরো বেশ কয়েকটি এড নেটওয়ার্ক রয়েছে। ফেসবুক কোম্পানির ইনস্ট্যান্ট আর্টিকেল, ইয়াহু এবং মাইক্রোসফট মিলে পরিচালনা করছে মিডিয়া ডট নেট, এছাড়াও এমজিআইডি, ইজোইক, প্রোপেলার,  ইনফোলিংক্স, ট্যাবুলা, রেভিনিউ হিটস প্রভৃতি এড নেটওয়ার্ক জনপ্রিয়।

পাঠকগণের জন্য আজ আমরা সেরা কয়েকটি এড নেটওয়ার্কের বিস্তারিত আলোচনা করবো।

১. Google Adsense

Adsense বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং সর্বাধিক প্রচলিত এড নেটওয়ার্ক। পৃথিবীর প্রায় ২০ লক্ষ পাবলিশার বর্তমানে এডসেন্স ব্যবহার করছে। এডসেন্স বিজ্ঞাপন ক্লিকের উপর অর্থ প্রদান করে পাবলিশরাদের। Google Adsense যে কোনো পাবলিশার সাইটে এড শো করায় না। এডসেন্সের কিছু নীতিমালা মেনে চলা সাইটেই শুধু মাত্র এড শো করায়। এডসেন্স অনুমোদিত ভাষায় ৫০০ শব্দের কমপক্ষে ২৫-৩০টি ইউনিক কন্টেন্ট ওয়েবসাইটে পাবলিশ করার পর তা গুগল সার্চ কনসোলে এড করতে হয়। তারপর এডসেন্স এপ্রুভালের জন্য আবেদন করতে হয়।

এডসেন্স থেকে কমপক্ষে ১০০ ডলার উত্তোলন করতে হয়। ব্যাংক একাউন্ড, ব্যাংক চেক বা অনলাইন মানি এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে টাকা উত্তোলন করতে হয়।

২. ইজোইক

Ezoic একটি অন্যতম জনপ্রিয় এড নেটওয়ার্ক। ইজোইকে গুগল এডসেন্সের মতো শুধু ক্লিকে না বিজ্ঞাপন ইম্প্রেশন বা বিজ্ঞাপন ভিউয়ের জন্যও পে করে। ইজোইক ব্যবহারের জন্য ওয়েবসাইটে ইউনিক কন্টেন্ট, ভালো মানের এসইও, মাসে কমপক্ষে ১০০০ হাজার পেজভিউ এবং ওয়ার্ডপ্রেস সাইট হতে হবে। সাইটটি কয়েক ধাপে এড করতে হয়। ৫০ ডলার হলেই উত্তোলন করা যায় ইজোইক থেকে। এই এড নেটওয়ার্ক সাইটকে নিজেদের সিডিএন এর মাধ্যমে স্পিড নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। সব মিলিয়ে চমৎকার একটি এড কোম্পানি ইজোইক। এখান থেকে ভালো উপার্জন করা সম্ভব।

৩. Instant Article

Instant Article হলো ফেসবুক কোম্পানির একটি এড নেটওয়ার্ক। কোনো ওয়েবসাইটে ইন্সট্যান্ট আর্টিকেল ব্যবহার করলে সাইট স্পিড বা হোস্টিং সমস্যার মুখোমুখি হতে হয় না। কেননা আর্টিকেলগুলো ফেসবুকেই লোড হয়। আর্টিকেলের মাঝে ফাঁকে ফাঁকে নেটিভ এড শো করায় ইন্সট্যান্ট আর্টিকেল। এর মাধ্যমে ভালো অর্থ উপার্জন করা সম্ভব। Instant Article মূলত মোবাইল ইউজারদের জন্যই এড শো করায়। ডেস্কটপ ইউজারদের জন্য এখনো এড চালু করেনি। ইনস্ট্যান্ট আর্টিকেল থেকে উপার্জিত টাকাও কমপক্ষে ১০০ ডলার হলেই উত্তোলন করা যায়।

৪. Media.net

অরো একটি জনপ্রিয় এড নেটওয়ার্ক হলো Media.net (মিডিয়া ডট নেট)। এটি মূলত কনটেক্সটচুয়াল এডস নিয়ে কাজ করে। যা CPA, CPM, ও CPC ভিত্তিক পরিচালিত হয়।

মিডিয়া ডট নেট এড নেটওয়ার্ক মাইক্রোসফট কোম্পানির সার্চ ইঞ্জিন Bing ও Yahoo এর যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত প্রতিষ্ঠান।

মিডিয়া ডট নেট পাবলিশারদের জন্য কোনো ট্রাফিক টার্গেট দেয় না। ওয়েবসাইটের ট্রাফিক অনেক কম হলেও পাবলিশার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হওয়া যায়। মিডিয়া ডট নেটও ১০০ ডলার সর্বনিম্ন উত্তোলন সীমা দিয়ে রেখেছে।

৫. Propeller Ads

Propeller Ads এর পাবলিশার হিসেবে আবেদন করার জন্য কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। যেকোনো রকম ওয়েবসাইটে প্রোপেলার এড নেটওয়ার্কে তাৎক্ষণিক এপ্রুভাল পাওয়া যায়। এই কারণে Propeller Ads ব্লগারদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। Propeller Ads নেটওয়ার্ক টেক ব্লগাররা বেশি পছন্দ করে। মোবাইল ফোন, কম্পিউটার, সোশ্যাল মিডিয়া, সফটওয়্যার, গেমস ইত্যাদি কনটেন্ট বিশিষ্ট সাইটের জন্য Propeller Ads উত্তম।

এখানে ১০০ ডলার উত্তোলন করা যায়। ব্যাংক ট্রান্সফার করতে হলে ৫৫০ ডলার হলেই কেবল তা করা যায়।

৬. Revenuehits

Revenuehits একটি জনপ্রিয় এড নেটওয়ার্ক। এটি গুগল এডসেন্স এর মতোই CPA নির্ভর এড নেটওয়ার্ক। এই এডনেটওয়ার্ক ১০ থেকে ১০০ ডলার পর্য্ন্ত পেমেন্ট করে। রেভিনিউ হিটস ভিউয়ের জন্য পে না করলেও ক্লিকের জন্য উচ্চমানের পে করে থাকে। যেকোনো রকম ওয়েবসাইটে রেভিনিউহিটস কোম্পানির এডস শো করানো যায়। আবেদন করলে তাৎক্ষণিক এপ্রুভাল দেয় Revenuehits। ৫০ ডলার একাউন্টে জমা হলেই উত্তোলন করা যায়।

৭. Popads

Popads একটি প্রিমিয়াম এড নেটওয়ার্ক। এই নেটওয়ার্কে আবেদন করার সাথে সাথেই তৎক্ষণাৎ এপ্রুভাল পাওয়া যায়। Popads  নেটওয়ার্ক সিপিএম বা এডস ইম্প্রেশনের জন্য পে করে। যেকোনো প্রকার ওয়েবসাইটে এই এড ব্যবহার করা যায়। ৫ ডলার ব্যালেন্স হলেই Popads থেকে টাকা উত্তোলন করা যায়।

৮. MGID

ওয়েবসাইটে দৈনিক কমপক্ষে ৩০০০ ট্রাফিক থাকলে MGID এড নেটওয়ার্কে অন্তর্ভুক্ত হওয়া যায়। MGID মূলত ন্যাটিভ এড প্রদর্শন করে। ন্যাটিভ এড হলো এমন এক পদ্ধতি যার মাধ্যমে ওয়েবাসাইটের ডিজাইন ও কনটেন্টের সাথে মিল রেখে তৈরি করা হয় এডস। ন্যাটিভ এডের সুবিধা হলো ক্লিক পড়ার সম্ভাবনা অন্য সকল এডের থেকে বেশি। এ সকল এডের সাথে সাইটের কনটেন্টের মিল থাকায় ইউজাররা এগুলোকে মূল কনটেন্ট ভেবে ক্লিক করে। এ কারণেই পাবলিশারদের কাছে ন্যাটিভ এড প্রিয়।

MGID থেকে উপার্জনের টাকা উত্তোলনের রিকুয়েস্ট করার ২৪ ঘন্টার মধ্যে পাবলিশারদের পেমেন্ট নিশ্চিত করে। একাউন্টে ১০০ ডলার হলেই উত্তোলন করার জন্য রিকুয়েস্ট করা যায়।

৯. Taboola

ট্যাবুলা একটি অন্যতম পাবলিশার প্রিয় এড নেটওয়ার্ক। যেকোনো রকম আর্টিকেল সাইটে Taboola এড শো করায়। তবে ট্যাবুলা ছোট বা মাঝারী ধরনের পাবলিশদের জন্য উত্তম এড নেটওয়ার্ক নয়। Taboola এপ্রুভ পাওয়ার জন্য ওয়েবসাইটের প্রতি মাসে কমপক্ষে ৫০০,০০০ ভিজিটর আবশ্যক। লক্ষ লক্ষ ভিজিটর আছে এমন সাইটের জন্য Taboola একটি উত্তম এড সার্ভিস। এখানে উত্তোলনের পরিমাণের কোনো বিধি নিষেধ নেই।

১০. Hilltop Ads

Hilltop Ads একটি anti-adblocker এড নেটওয়ার্ক। এটি সাধারণত মাঝারি কিংবা বড় ধরনের ওয়েবসাইটের জন্য উপযোগি। ভিজিটর সংখ্যা যদি বেশি হলেই কেবল Hilltop Ads ব্যবহার করা যায়।

কম ট্রাফিকের ওয়েবসাইটে Hilltop Ads এপ্রুভ করে না। anti-adblocker প্রযুক্তি ব্যবহারের কারণে ওয়েবসাইটের সকল ভিজিটরের জন্য পে করা হয়। এ কারণেই ওয়েবসাইটে ট্রাফিকের সংখ্যা পরিমাণে বেশি থাকতে হয়। Hilltop Ads সর্বনিম্ন ৫০ ডলার পেমেন্টে করে।

আরো পড়ুন: কম দামে সেরা মোবাইল ফোন

আরো পড়ুন: গুগলের জানা অজানা কাহিনী

3 thoughts on “এডসেন্স এর বিকল্প এড নেটওয়ার্ক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *